ঢাকা রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১

অবন্তিকা আত্মহত্যা: তড়িঘড়ি করলে তো আর তদন্ত সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা তেমন থাকে না : উপাচার্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৪ ১৫:৪৮; আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৪ ২০:৫৮

অবন্তিকার আত্মহত্যা: সভায় বসেছে তদন্ত কমিটি।

উপাচার্য বলেন, “তড়িঘড়ি করলে তো আর তদন্ত সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা তেমন থাকে না। তবে আমরা খুব দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাব বলে আশা করছি।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় কীভাবে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে তা ঠিক করতে প্রথম সভায় বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটি।

রোববার দুপুর ১২টা ৫০মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জাকির হোসেনের কক্ষে এই সভা শুরু হয়। 

অধ্যাপক জাকির বলেন, “আজ শুধুমাত্র আমরা কমিটির পাঁচজন বসছি। আমাদের চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো সময় দেওয়া হয়নি, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এরকম বলা হয়েছে।“

সভার এজেন্ডা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা ঘটনা সংশ্লিষ্ট কাউকে ডাকিনি। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার একটা ব্যাপার আছে। তদন্ত কমিটি কীভাবে আগাবে তার একটা নকশা তৈরি করব আজ। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।“

অধ্যাপক জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার দাসকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের এই কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবুল হোসেন এবং সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ঝুমুর আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম এদিন সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি মোকাবিলা করার জন্য তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত দুজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছি। তখন ত্বরিৎ গতিতে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, তারা তাদের কাজও শুরু করে দিয়েছে।

“যখন একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয় তখন তাদের খুব সূক্ষ্মভাবে তদন্ত করতে হয়। সেখানে অভিযুক্তদেরও আত্মপক্ষের যুক্তি শুনতে হয়।“

তদন্ত শেষ হতে কতদিন সময় লাগতে পারে প্রশ্ন কলে উপাচার্য বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনের বাইরে গিয়ে তো কিছু করা যাবে না। তড়িঘড়ি করলে তো আর তদন্ত সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা তেমন থাকে না। তবে আমরা খুব দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাব বলে আশা করছি।“

এর আগে সাদেকা হালিম ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেবে বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছিলেন।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা শহরের বাগিচাগাঁও ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন অবন্তিকা। তার আগে এক ফেইসবুক পোস্টে দায়ী করে যান দুইজনকে। তাদের একজন তার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান এবং অন্যজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম।

আম্মান তাকে অনলাইন ও অফলাইনে ‘হুমকির ওপর’ রাখতেন এবং সহকারী প্রক্টরকে অভিযোগ দেওয়ার পর তিনিও ‘হুমকি ধমকি দিয়েছেন’- এমন অভিযোগের কথা লিখে গেছেন অবন্তিকা।

নিজেকে ‘লড়াকু’ মেয়ে বর্ণনা করে এই তরুণী ফেইসবুকে লেখেন, “আমি যদি কখনো সুইসাইড করে মারা যাই তবে আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী থাকবে আমার ক্লাসমেট আম্মান সিদ্দিকী, আর তার সহকারী হিসেবে তার সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার কারণে তাকে সাপোর্টকারী জগন্নাথের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম।”

‘আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়’, এটাও লিখেছেন তিনি। তাও কেন সে পথে গেছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়ে লিখেছেন, “আমাকে বাঁচতে দিতেসে না বিশ্বাস করেন। আমি ফাইটার মানুষ। আমি বাঁচতে চাইসিলাম।”

এ ঘটনায় শুক্রবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবন্তিকার সহপাঠী ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার সকালে রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে বহিষ্কার ও দ্বীন ইসলামকে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের পদ থেকেও সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন দ্বীন।

রাতে আম্মান ও দ্বীনকে আসামি করে কুমিল্লা কোতয়ালি থানায় মামলা করেন অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম। সেখানে দুইজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। পরে রাতেই আম্মান ও দ্বীনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানান ঢাকার পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান। 

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top