ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বিদেশ ফেরতদের ৬৬ শতাংশ এইডসে আক্রান্ত

আবদুল হাই তুহিন | প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০১:১৪; আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:২৪

এইডসে সারাবিশ্বে প্রতিবছর বহুলোকের প্রাণহানি ঘটে। ২০২০ সালে বাংলাদেশে এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছিল মাত্র ৯৪৭ জন। তিনবছরের ব্যবধানে এসে ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। শনাক্ত হওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই বিদেশ ফেরত। কোন যাত্রী এইডস আক্রান্ত কিনা তা শনাক্ত করার যন্ত্র নেই বিমান বন্দরে। ফলে চিকিৎসার বাইরেই থেকে যাচ্ছেন অনেকে। অন্যদিকে রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এই রোগীরা চিকিৎসা নিলেও সেখানে নেই তাদের জন্য ল্যাব সুবিধা। ফলে রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। অন্যদিকে আক্রান্তরাও পাচ্ছেন না যথাযথ চিকিৎসা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইডস শনাক্ত হওয়া রোগী চিকিৎসা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এইডস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। বাংলাদেশে এইচআইভি এইডস রোগীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছিল মাত্র ৯৪৭ জন। তিনবছরের ব্যবধানে এসে ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। শনাক্ত হওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই বিদেশ ফেরত।
যদিও এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক সাড়ে ১৪ হাজার রোগী রয়েছে। এসব রোগীর ৩৭ শতাংশ এখনও শনাক্তের বাইরে। আর চিকিৎসার বাইরে রয়েছে ২৩ শতাংশ রোগী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরণব্যাধি এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ। এক সময় শিরায় মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, সমকামী এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইডস বেশি শনাক্ত হতো। এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ রোগ শনাক্ত হচ্ছে। দেশের অন্য জেলার তুলনায় ঢাকায় এইডস রোগী বেশি শনাক্ত হচ্ছে। এদিকে অস্বাভাবিকভাবে এইডস রোগী পাওয়া যাচ্ছে সিরাজগঞ্জে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস প্রতিরোধ কর্মসূচির তথ্য বলছে, বছরে নতুন শনাক্তদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অভিবাসী অথবা তাদের পরিবারের সদস্য। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে প্রবেশের আগেই এইচআইভি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে আক্রান্ত হয়ে দেশে ফেরত আসার পর তাদের শনাক্তে বিমানবন্দরে ব্যবস্থা নেই। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আসা ১ হাজার ৫৪২ সন্দেহভাজন ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ শতাংশের এইডস শনাক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে এ হার ছিল ৬ শতাংশ। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির ৬৬ শতাংশই বিদেশ ফেরত। ২১ শতাংশ সমকামী। এইডস শনাক্ত হওয়া ১২ শতাংশ যক্ষ্মার রোগী। এদের ৬ শতাংশ রোহিঙ্গা। ৫ শতাংশ ব্যক্তির মা-বাবা থেকে এইচআইভি হয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসকরা বলছেন, এইচআইভি পজিটিভ ৯৮ শতাংশ মা সুস্থ সস্তান জন্ম দিতে পারেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইচআইভি এইডসের ২০২৩ সালের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে এক বছরে ১ হাজার ১০০ এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর আগে কোনো বছর এত রোগী দেখা যায়নি। এ নিয়ে এইডসে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো প্রায় ১১ হাজার। এর আগে ২০২০ সালে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৯৪৭ জন। এবার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চেয়ে সাধারণ মানুষ এইচআইভিতে বেশি সংক্রমিত হয়েছে। প্রতি বছরের মতো রোগী শনাক্তের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, রোগী শনাক্তের দিক থেকে ঢাকার পরে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। এর পরে চট্টগ্রাম বিভাগ। তবে সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে অস্বাভাবিক হারে এইডস রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত এক বছরে সেখানে ১৪৪ এইডস রোগী মিলেছে। যাদের মধ্যে ৯৮ শতাংশই সুঁই-সিরিঞ্জের মাদকসেবী। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন অধ্যাপক শামিউল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জে এইচআইভি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ার কারণ সেখানে কর্মসূচি না থাকা। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে এইডস/এসটিডি প্রোগ্রামের তত্ত্বাবধানে জেলা হাসপাতালে এইডস চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এছাড়া একটি মেথাডন ক্লিনিক (বিকল্প মাদক চিকিৎসা) স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্লিনিকের মাধ্যমে সুই-সিরিঞ্জের পরিবর্তে আক্রান্তদের মুখে মাদক প্রদান করা হয়। এতে সুই-সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাত্রা কমে আসে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে আর এইচআইভি ছড়ায় না।সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এইডস রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আরিফুল বাশার বলেন, এ হাসপাতালে জটিল রোগীর সেবা দেয়া হয়। তবে সংকট হলো, এসব রোগীর চিকিৎসায় যে ধরনের ল্যাব সুবিধা থাকা জরুরি, তা নেই। অনেক সময় এইডস আক্রান্ত রোগীর অস্ত্রোপচার ও হার্টের রিং পরানো প্রয়োজন হলেও সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলো চিকিৎসা দিতে চায় না।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top