ঢাকা শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে গণহত্যার অভিযোগ তদন্তে আবেদন

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৪ ০১:৩৯; আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৪ ০১:৪০

 

আন্দোলনের সময় নিহত বাগেরহাটের আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবার পক্ষে আইনজীবী গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম আবেদন জমা দেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত ’হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনের’ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন এক আইনজীবী।

 

বুধবার করা এ আবেদনে আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও ৯ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

 

সরকারি চাকরিতে কোটা আন্দোলনের সময় নিহত বাগেরহাটের আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা মো. বুলবুল কবিরের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম বুধবার এ আবেদন জমা দেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. আতাউর রহমান এমন আবেদন জমা হওয়ার তথ্য দিয়ে এটি তদন্তের প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা অভিযোগটি গ্রহণ করেছি। এরপর পেপার ওয়ার্ক হবে, আমরা ঘটনাস্থলে যাব, সারাদেশে যেখানে যেখানে ঘটনা হয়েছে সব জায়গায় গিয়ে তদন্ত করা হবে। তারপর প্রতিবেদন জমা দেব।”

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের এ সংক্রান্ত বক্তব্য আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার খবর এল।

এদিন সকালে সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘গণহত্যার’ ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ যাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উদ্যোগ। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে দ্বিতীয় দফায় শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ছাত্র-জনতার প্রবল গণ আন্দোলনের মুখে গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার পতনের ৯ দিন পর বুধবার সেই ট্রাইব্যুনালেই তার বিরুদ্ধে বিচারের আবেদন করা হল।

এদিন ভারতে অবস্থানকারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে মিরপুরে গুলিতে কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।

এর আগে হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হত্যা ও আরেকটি অপহরণ ও নির্যাতনের মামলা।

 

আবেদনকারী আইনজীবী তামিম পরে সাংবাদিকদের বলেন, “১৫ জুলাই ২০২৪ থেকে ৫ অগাস্ট ২০২৪ পর্যন্ত দেশে ছাত্র জনতার উপর যে গণহত্যা চলেছে সেই গণহত্যাকে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করার জন্য আমি একটি দরখাস্ত এনেছি। যাদের ‘ইনস্টিগেটিং’ বক্তব্যের কারণে পুলিশের কিছু সদস্য, র‌্যাবের কিছু সদস্য রাস্তায় নির্মমভাবে আমাদের ছোট ছোট শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছে। এটা গণহত্যা হয়েছে।

“এই সিস্টেম ক্রাইম, এই পরিকল্পিত ক্রাইম-এটা একমাত্র এই ট্রাইব্যুনালেই হওয়া সম্ভব।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও অন্য যাদের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন করা হয় তারা হলেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

 

এছাড়া রয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশীদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মো. হারুন অর রশিদ।

 

একই অপরাধে ব্যক্তির পাশাপাশি দল এবং সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে বলে অ্যাডভোকেট তামিম জানান।

 

তিনি বলেন, ট্রাইবুনালের তদন্ত সংস্থা অভিযোগটি তদন্ত করবে এবং সত্যতা পেলে মামলা করার সুপারিশ করবে। এরপর এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করা হবে।

 

তামিম আরও বলেন, এসব আসামির পাশাপাশি নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে আবেদনে।

 

সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলন অগাস্টের শুরুতে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়। জেলায় জেলায় সহিংসতায় মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রায় তিনশ মানুষের প্রাণ যায়। এর মধ্যে ৫ অগাস্ট আন্দোলনকারীদের ঢাকামুখী লংমার্চের দিন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং পালিয়ে ভারতে চলে যান। তার দেশত্যাগের নয় দিনের মধ্যে হত্যা, অপহরণ ও নির‌্যাতনের মামলা হয়। পরে ট্রাইবুন্যালে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ তদন্তের আবেদন করা হল।

 

দুই বছরের সেনা শাসনের পর ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা সরকার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ বিচারপতি নিজামুল হককে চেয়ারম্যান, বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এ কে এম জহির আহমেদকে সদস্য করে গঠন করে হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top