ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯

দুর্দান্ত লড়াই করেও টাইব্রেকারে হেরে বিদায় ব্লু সামুরাইদের

ক্রীড়া ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ০০:০২; আপডেট: ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ০০:০৫

 

জার্মানি, স্পেনের মতো বিশ্বকাপের অন্যতম দুই দাবিদারকে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে এসেছিল জাপান। দেশবাসীকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ইতো জুনিয়া, দোয়ান রিৎসু, কামাদা দাইচিরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ এসেছিল। ১২০ মিনিট দুর্দান্ত লড়াই করেও স্বপ্নভঙ্গ নীল সামুরাইদের। গতবারের রানার্স ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে ৩–১ ব্যবধানে হেরে প্রি–কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হল। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে খেলার ফল ছিল ১–১।

জার্মানি, স্পেনের বিরুদ্ধে যে স্ট্র‌্যাটেজিতে খেলেছিল জাপান, ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে কিন্তু একই রণকৌশল অবলম্বন করেনি। শুরু থেকেই ডিফেন্সিভ ফুটবলরে দিকে না ঝুঁকে আক্রমণের রাস্তায় হেঁটেছিল। ক্রোয়েশিয়াও কিন্তু পিছিয়ে ছিল না।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই জাপানের ওপর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ম্যাচের ৯ মিনিটেই এগিয়ে যেত পারত ক্রোয়েশিয়া। তোমিয়াসু তাকেহিরোর ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গিয়েছিলেন পেরিসিচ। বক্সে ঢুকে দেরি করে ফেলায় কাজে লাগাতে পারেননি। প্রতি আক্রমণে উঠে এসে ১৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল জাপানের সামনে। ডানদিক থেকে দুর্দান্ত বল বাড়িয়েছিলেন ইতো জুনিয়া। মায়েদা ডাইজেন বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি।

 

২৪ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। পেরিসিচের বাড়ানো বল থেকে নেওয়া জসকোর বাঁ পায়ের শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

 

এরপর আক্রমণ প্রতি আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠলেও কোনও দল বলার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ৪০ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন কামাদা দাইচি। সুবিধাজনক জায়গা থেকে বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন।

অবশেষে ৪৩ মিনিটে লক্ষ্যভেদ নীল সামুরাইদের। ডানদিক থেকে ক্রোয়েশিয়া বক্সে বল ভাসিয়েছিলেন দোয়ান রিৎসু। ইয়োসিদা মায়া হেডে নামিয়ে দেন। ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল যায় মায়েদা ডাইজেনের কাছে। তাঁর ডানপায়ের শট জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধে বলের দখল বেশি থাকলেও পিছিয়ে পড়তে হয় ক্রোয়েশিয়া।


দ্বিতীয়ার্ধে মডরিচরা যে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এটা প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু প্রথম সুযোগটা এসেছিল জাপানের সামনেই। কামাদা দাইচির শট বারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

৫৫ মিনিটে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। ডানদিক থেকে সেন্টার করেছিলেন ডিয়ান লভরেন। উড়ে আসা বলে হেডে গোল করেনপেরিসিচ। ২ মিনিট পরেই আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল জাপানের সামনে। এন্ডোর শট গোলে ঢোকার মুখে ফিস্ট করে কর্ণারের বিনিময়ে বাঁচান ক্রোয়েশিয়া গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ।

৬৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শট নিয়েছিলেন লুকা মডরিচ। অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সেই বল ফিস্ট করে কর্ণারের বিনিময়ে বাঁচান জাপান গোলকিপার গন্ডা সুইচি।এরপর একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসে ক্রোয়েশিয়া।

৭৪ ও ৭৭ মিনিটে দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন পেরিসিচ। শেষ দিকে চাপ রেখেও আর গোল তুলে নিতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।


নির্ধারিত সময়ের মতো গতি অতিরিক্ত সময়ে ছিল না। ক্রোয়েশিয়া যেমন হতদ্যোম হয়ে পড়েছিল, জাপানও ডিফেন্সে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রতি আক্রমণের রাস্তা বেছে নিয়েছিল। প্রতি আক্রমণ থেকে ১০৫ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল জাপানের সামনে। নিজেদের হাফ থেকে বল ধরে দ্রুত গতিতে উঠে এসে ডি বক্সের মধ্যে থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন মিতোমা কাওরু। লিভাকোভিচ ফিস্ট করে নিশ্চিত গোল বাঁচান। বাকি সময়ে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষ হয় ১–১ গোলে। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে জাপানের হয়ে প্রথম শট নেন মিনামিনো। তাঁর শট আটকে দেন ক্রোট গোলকিপার লিভাকোভিচ। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে প্রথম শটে গোল করেন নিকোলা ব্লাসেচ। জাপানের দ্বিতীয় শট নেম মিতোমা। সেই শটও আটকে দেন লিভাকোভিচ। মার্সেলো ব্রোজোভিটা গোল করে ২–০ ব্যবধানে দলকে এগিয়ে দেন। জাপানের হয়ে তৃতীয় শটে গোল করেন আসানো। ক্রোয়েশিয়ার লিভায়ার শট পোস্টে লাগে। ইয়োসিদার শট বাচান লিভাকোভিত। চতুর্থ শটে মারিও পেরিসিচ গোল করে ক্রোয়েশিয়ার জয় নিশ্চিত করে।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top