ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯

একমাত্র বাংলাদেশী স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অনিক দুটি বিশ্বকাপে কাজ করতে পেরে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

ক্রীড়া ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩:০৮; আপডেট: ৩১ জানুয়ারী ২০২৩ ১৭:০১

 

বাংলাদেশি ফিফা ভলেন্টিয়ার অনিক হায়া কার্ডের মাধ্যমে ওমরা হজ করার সুযোগ পেয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। 

আমি রেজাউল হোসেন অনিক। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করেছি। বর্তমানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্পোরেট বিভাগে আছি। পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে টুকটাক কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্বকাপে কাজ করার জন্যে অফিস থেকে ২ মাসের আনপেইড লিভ নিতে হয়েছে।

তো এবার আমার অভিজ্ঞতা শুরু করা যাক। এটা আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০১৪ ব্রাজিলে প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব শুরু করি। সেক্ষেত্রে আমি সৌভাগ্যবান যে আমি এটার পাইওনিয়ার। সেইবার ব্রাজিলের রিও ডি জানেইরো তে মারাকানা স্টেডিয়ামে সাতটি ম্যাচে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করি ফাইনাল ম্যাচটি সহ। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জার্মানির মারিও গোটজের সেই গোলটি দেখেছি একদম চোখের সামনে খুব কাছ থেকে।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও আমি সিলেক্ট হই কিন্তু আমার পছন্দের ভেনু মস্কো লুঝিনিকি তে আমাকে না দেয়ায় সেবার আমার আর যাওয়া হয়নি। সেই আক্ষেপ্টা হয়তো থেকেই যাবে।

এবার আসি কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে বলতে। কাতার বিশ্বকাপে ১৬০০০ লোকাল ভলেন্টিয়ার আর ৪০০০ ইন্টারন্যাশনাল ভলেন্টিয়ার কাজ করবে। ইন্টারন্যাশনাল ভলেন্টিয়ার দের সিলেকশন প্রক্রিয়া আরো ৮ মাস আগে থেকে বিশ্ববাপি অনলাইনে শুরু হয়। বেশ কয়েকটি ধাপে ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ার সিলেক্ট করা হয়। টোটাল ৪৫০০০০ এর ও বেশি এপ্লিকেন্ট এপ্লাই করে ভলান্টিয়ার হবার জন্য।


২০১৪ বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ ৮টি বছর অপেক্ষা করেছি, ধর্জ্য ধরেছি আরেকটি বিশ্বকাপে কাজ করার সুজোগ পাওয়ার জন্য। সব সিলেকশন ধাপ পার করার পর যখন ফিফা থেকে ইমেইল আসলো যে আমি ফাইনালি সিলেক্টেড হয়েছি তখন ২ চোখের পানি না আটকিয়ে পারলাম না। তখন আমার অফিসের ২ কলিগ আমাকে শাগত জানিয়ে জরিয়ে ধরে এবং তারা আমার এই অভিজ্ঞতার বেপারে আগে থেকেই জানতো যে এটার মর্ম আমার কাছে কতখানি। অবশেষে আরও একবার আমি বাংলাদেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ এ কাজ করার জন্য লুসাইল স্টেডিয়ামে সিলেক্ট হলাম, যে স্টেডিয়ামে এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। কাজ করব দর্শক ব্যবস্থাপনা ভলান্টিয়ার হিসেবে।

আমার কাজ মূলত যারা ম্যাচ দেখতে আসে তাদের ইনফরমেশন প্রোভাইড করা, কোন প্রবলেম এরাইজ হলে সেটাকে সলভ করার দ্রুত চেষ্টা করার পাশাপাশি টিকেট অনুযায়ী তাদের বসার আসন দেখাতে সাহায্য করা। মূলত কাজটা স্টেডিয়ামের ভিতরেই ম্যাচ চলাকালীন সময়। আর ম্যাচ শুরু হতে হতে তখন কাজের প্রেশার টা কমে যায়। তখন ম্যাচ গুলাও দেখার সু্যোগ হয়। কিন্তু মাঝেমধ্যে দরকার পড়লে স্টেডিয়ামের বাইরেও আমাদের ডিউটি হয় কিন্তু সেটা খুব কম।


লুসাইল স্টেডিয়ামে টোটাল দশটি ম্যাচ হবে যার মধ্যে ছয়টি গ্রুপ স্টেজের ম্যাচ, একটি দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, একটি সেমিফাইনাল এবং একটি ফাইনাল হবে। তবে আরো বলে রাখি যে লুসাইল স্টেডিয়ামে কাজ করার পাশাপাশি আল বায়েত স্টেডিয়ামেও কাজ করার জন্য অফার পেয়েছি ।


যাইহোক ইতিমধ্যে লুসাইল স্টেডিয়ামে অনেকগুলো বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। একে একে দেখে ফেলেছি আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও পর্তুগালের ম্যাচ। মাত্র এক সপ্তাহের মাঝে দেখে ফেললাম মেসি নেইমার এবং রোনালদোকে। আমি ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলের বিশাল ভক্ত। এবং প্লেয়ার হিসেবে পছন্দ করি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।

২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল এ মারাকানা স্টেডিয়ামে কাজ করলেও ব্রাজিল এবং রোনালদোর খেলা মারাকানায় পরেনি বিধায় কাউকেই দেখা হয়নি তখন সামনে থেকে। কিন্তু দীর্ঘ আট বছর পর অবশেষে আমার এই অপেক্ষার পালা শেষ হলো। সুযোগ হলো ফুটবল বিশ্বকাপের সব সেরা সেরা দল এবং সেরা সেরা খেলোয়াড়দের সামনে থেকে দেখার। এই অভিজ্ঞতা বলে বুঝানো সম্ভব নয়।


শুধু তাই নয়, হায়া কার্ডের সুবাদে ঊমরাহ হজ করার ও সুজোগ হয়েছে। সেটা নিয়ে আরেকদিন লিখবো।

যেহেতু বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি তাই সবসময় মাথায় রাখি দাইত্তের সহিত কাজ পালন করতে যেনো কোনো ভাবেই দেশের নাম খারাপ না হয়। এবং কাজ করার পাশাপাশি চেস্টা করি বাংলাদেশের বেপারে বাকি দের পরিচিত করতে।


কাতারের বিশ্বকাপ এর আয়জনে কোন কমতি রাখে নি। এবার ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ার দের থাকার বেবস্থা করে দিয়েছে কাতার এবং ফিফা মিলে। আমাদের থাকার স্থান 'বারাহাত আল জানউব' নামক স্থানে। এবং দেশ থেকে আমার এই জারনি তে আমার পাশে ছিলো বসুন্ধরা কিংস।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top