ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

স্বপ্নের সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

এম.এ রনী ,নেপাল (কাঠমান্ডু) থেকে | প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৯:১১; আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৫২

এ এক ঐতিহাসিক মুহুর্ত্ত নেপালের দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে। যা কোন ভাষাতে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে বাংলার বাঘিনীদের নেপালের পনের হাজার দর্শকদের কাদিঁয়ে নেপালকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২২ এর প্রথম থেকে বাংলাদেশের নারী দলের অংশগ্রহন ছিল দুর্দান্ত। অসাধারণ খেলা উপহার দিয়ে গ্রূপ পর্যায় পার করে সেমিতে ভূটানকে উড়িয়ে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠতে সক্ষম হয়। ফাইনালে মুখোমুখি হয় কখোনোই জয় না পাওয়া স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে। নেপালের মাটিতে নেপালের বিপক্ষে যে কোন দলের খেলাই খুবই কঠিন ব্যপার। কিন্তু সকল জল্পনা-কল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের বাঘিনীরা প্রথম বারের মতো সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো।

 

 

নেপাল কোচ বলেছিলেন, বাংলাদেশের ট্র্যাকটিস এবং ট্যাকনিকে অনেক ভালো। কুমার থাপার মন্তব্যকে বাঘিনীরা প্রমাণ করেই একের পর এক আক্রমণে নেপালকে বিধ্বস্ত করতে থাকে বাঘিনীরা। বাংলাদেশের গোছানো ফুটবলে কাছে অভিজ্ঞ নেপাল যেন অসহায় হয়ে পড়ে।

 

১৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বাংলাদেশ সময় ৫:১৫ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় ফাইনাল ম্যাচের প্রথম থেকেই বাংলাদেশ তাদের আক্রমণাত্নক ফুটবল খেলা উপহার দিতে থাকে। নারী ফুটবরের অভিভাবক ছোটনের পরিকল্পনা মতো খেলতে থাকে মেয়েরা। 

টুর্নামেন্টের বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল স্কোরার স্বপ্না সেমিতে ইনজুরিতে পড়েছিলেন। চোঁট আক্রান্ত স্বপ্নাকে মূল একাদশে রেখেই খেলতে নামে বাংলাদেশ দল। কিন্তু স্বপ্না বেশীদুর এগোতে পারেনি, ম্যাচের দশ মিনিটের মাথায় স্বপ্না ইনজুরির কাছে হার মেনে মাঠ ছাড়তে হয়।  স্বপ্নার বদলি হিসেবে খেলতে নামে সামসুননাহার জুনিয়র।

 

বদলি হিসেবেই খেলতে নেমেই বাজিমাত করে দেন সামসুননাহার জুনিয়র। মাঠে নামার পঞ্চম মিনিটেই এবং খেলার ১৫ মিনিটের মাথায় অসাধারণ এক গোল করে বাংলাদেশকে ১-০ গোলে লীড এনে দেয়। মণিকা চাকমার ডি-বক্সের বাড়ানো বলে অসাধারণ নৈপূণ্যে গোল করেন সামসুননাহার জুনিয়র।

 

প্রথম গোলের পর আরো কয়েকিটি সুযোগ তৈরী করে বাংলাদেশ মেয়েরাও গোল করতে ব্যর্থ হয়।

 

খেলার ৪২ মিনিটে সাবিনার এগিয়ে দেওয়া বলে কৃষ্ণা রানী নেপালের ডি-বক্সের ভিতরে ঢুকে অসধারণ এক গোল করে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে লিড নিয়ে দুদলই বিরতীতে যায়।

বিরতীর পর নেপাল নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে নতুন ভাবে শুরু করে। ম্যাচের ৫৪ মিনিটেই নেপাল গোল পরিশোধ করা সহজ সুজোগটি নষ্ট করে। পিছিয়ে পড়া নেপাল একের পর আক্রমন করতে থাকে। গোল পরিশোধ করে ফেলে নেপাল। 

ম্যাচের ৬৯ মিনিটে আনিতার গোলে ব্যবধান কমায় নেপাল । থ্রো থেকে বল পেয়ে আনিতার কোনাকোনি শটে বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে ফাকিঁ দিয়ে জালে জড়ায়। 

নেপালের এক গোল পরিশোধ করার পর বাঘিনীরা আরো তীব্র ভাবে এগিয়ে যায়। নেপালের গোলের ৮মিনিটের মধ্যে আবারো গোল করে বাংলাদেশ ব্যবধান ৩-১ নিয়ে যায়। কাউন্টার এ্যাটাক থেকে মাঝ মাঠ থেকে এগিয়ে দেওয়া বলে নেপালের দশরথ রঙ্গসালা স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে কৃষ্ণা নেপালের জালে গোল করে বাংলাদেশের ব্যবধান আরো বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচে কৃষ্ণার এটা দ্বিতীয় গোল।

তৃতীয় গোল হজমের পর নেপালের খেলোয়াররা যেন মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশের খেলোয়াররা আরো উজ্জবিত হয়ে খেলতে থাকে। 

ঝিমিয়ে পড়া নেপালের খেলোয়াররা নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে সমতায় ফেরার জন্য বাংলাদেশের উপর আক্রমণ করতে থাকে কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণের দৃঢ়তায় নেপাল গোল করতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের বাকী সময় আর কোন গোল না হওয়া বাংলাদেশ এই প্রথমই নেপালকেই হারিয়ে স্বপ্নে সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top