ঢাকা বুধবার, ৬ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

সাঈদী কান্ডে মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের বিতর্কিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২২ ০০:০৩; আপডেট: ২৮ মে ২০২২ ০০:৩০

সম্প্রতি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

পরের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুবায়েরকে সবুজবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং র‌্যাবের দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আগেরদিন র‌্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) বীণা রানী দাস বলেন, ঘটনার দিন বুধবার রাতে অভিযান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন জুবায়ের আহমেদের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুই শতাধিক মানুষ।

তারা র‌্যাবের অভিযানকারী দলের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করে। তখন র‌্যাবের অভিযানকারী দল আত্মরক্ষার্থে ও সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য অবৈধ জনতার নেতৃত্বদানকারী জুবায়ের আহমেদকে গ্রেফতার করে। তাদের হামলায় র‌্যাবের ২ জন সদস্য আহত হয়। 

সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসাইন সাহেদী, ওরফে সাঈদী হোসেন, পিতা-মৃত মজিবুর রহমান। পারিবারিকভাবে জামায়াত-বিএনপির পরিবারতন্ত্রে বেড়ে ওঠেছেন সাহেদী। সময়ের পরির্তনে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে নিজের পরিবারকে রক্ষা ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দলের একটি পদ বা পরিচয় প্রয়োজন, এ বিষয়টি মাথায় রেখে মরিয়া হয়ে কাজ শুরু করে সাহেদী। গড়ে তুলে একটি কিশোর গ্যাং। যাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ হয় এলাকার অপরাধের বিশাল এক রাজত্ব। যে গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেয় দেলোয়ার হোসাইন সাহেদী।

ঘটনার চক্রে সূচনা হয় সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দিয়ে। বেশি দিন এই পদে থাকতে পারেনি সাহেদী। চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগে বহিস্কৃত হতে হয় তাকে। সেই সময়ে মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাত ধরে সাহেদী রাজনীতি করতেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় (দক্ষিন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি) তাকে ছেড়ে চাঁদাবাজিকে প্রতিষ্ঠিত করতে সবুজবাগের এক নেতার ছাতায় আশ্রয় নেন। হয়ে ওঠেন আরো বেপরোয়া।

৪নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতার অফিসেও হামলা করেন এই সাহেদী। অটোরিকশা, বাজার নিয়ন্ত্রণ, জায়গা দখল, স্থানীয় নির্বাচনে টাকার বিনিময়ে পোলাপান দেয়া, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের কাজে জড়িত বলে একাধিক মামলা ও অভিযোগ সাহেদীর বিরুদ্ধে। মাঝে মাঝে স্থানীয় প্রশাসন অপরাধী ধরার অভিযান পরিচালনা করলে অপরাধীদের গা-ঢাকা দিতে সহায়তা করেন এই সাহেদী।

সাহেদীর রয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণের বিশাল এক বাহিনী। যাদের প্রতিদিনের চলার জন্য বিশাল অর্থ সংগ্রহের জন্য টিম গঠন করে ধাপে ধাপে কাজ করেন তিনি। দৃশ্যমান ছাত্রলীগের পদ পেতে মরিয়া হয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মো: মেহেদী হাসানের সাথে রাজনীতি শুরু করেন।

তবে দেড় বছরেও মেহেদী হাসান তাকে কোনো পদ বা পরিচয় দেননি। কোথাও সদস্য হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। দীর্ঘদিন মো: মেহেদী হাসানের সাথে সময় দিয়েও কোনো পদ-পদবী ভাগিয়ে নিতে পারেননি দেলোয়ার হোসাইন সাহেদী।

কিন্তু থানা কমিটি গঠন হলেও কোথাও স্থান দেননি মোঃ মেহেদী হাসান তাকে। তারপর চেষ্টা করেন মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদের একটি চিঠির। কিন্তু মেহেদী হাসান তাকে তাও দিয়ে রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়নি। অতঃপর সবুজবাগে বর্তমান মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মশাল মিছিল করেন সাহেদী।

যেখানে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়, অবৈধ কমিটি মানি না, মানবো না। জুবায়ের এর দুই গালে..। কিন্তু সময়ের স্রোতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মো: মেহেদী হাসান তাকে কোনো ছাত্ররাজনীতির পরিচিতি না দেয়ায় জুবায়ের আহমেদ এর গ্রুপ রাজনীতি শুরু করেন। এ গ্রুপের নেতাকর্মীরা দেলোয়ার হোসাইন সাহেদিকে ভালোভাবে গ্রহণ না করলেও নেতা জুবায়ের আহমেদের কারণে মেনে নিতে বাধ্য হয় সকলে। জুবায়ের আহমেদ কেনো তাকে কাছে টেনে নিলেন? এমন প্রশ্ন অনেকের।

তবে এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, সব বিষয়ে হুটহাট করে তো ব্যবস্থা নেয়া যায় না। অপরাধ প্রমাণীত হলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদকে মুঠোফোনে কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top