ঢাকা শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ইফতারের পর মার্কেটগুলোতে চলছে কেনাকাটার ধুম

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২২ ০১:৫০; আপডেট: ২৮ মে ২০২২ ০৮:১৬

পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ইট-পাথরের যান্ত্রিক নগরী ঢাকার বাসিন্দারা।

ঢাকা ছাড়া মানুষের স্রোত দেখা যাচ্ছে বাস, ট্রেন, লঞ্চ সবখানেই। এ পরিস্থিতিতেও রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ঈদকেন্দ্রিক জমজমাট বিক্রি চলছে। বিশেষ করে ইফতারের পর মার্কেটগুলোতে নতুন পোশাকের পাশাপাশি জুতা ও জুয়েলারি পণ্য বিক্রি ধুম পড়েছে।

গত কয়েকদিন রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সারাদিনই ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত থাকছে মার্কেটগুলো। তবে ক্রেতাদের ভিড় সব থেকে বেশি দেখা গেছে ইফতারের পর। প্রতিটি মার্কেটেই ইফতারের পর ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। আর ক্রেতাদের এমন ভিড়ের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রয়কর্মীদের।

শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ, মৌচাকের বিভিন্ন মার্কেটসহ টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেট ঘুরে ইফতারের পর ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। শেষ সময়ে এসে তুলনামূলক কম দরদাম করে পছন্দের পোশাক কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। ফলে ক্রেতাদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাওয়া বিক্রেতাদের মুখেও হাসি ফুটেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, মহামারি করোনার কারণে গত দুই বছর ঈদকেন্দ্রিক তেমন ব্যবসা হয়নি। এবার গত দুই বছরের খরা কেটেছে। এবার রোজার শুরু থেকেই ঈদকেন্দ্রিক বিক্রি ভালো হচ্ছে। তবে মূল বিক্রি জমে উঠেছে ১৫ রোজার পর থেকে। এখন প্রতিদিনই ক্রেতারা মার্কেটে ছুটে আসছেন। ক্রেতাদের মূল চাপ থাকছে ইফতারের পর।

খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, এবার আল্লাহর রহমতে ভালো বিক্রি হচ্ছে। আশাকরি চাঁদরাত পর্যন্ত এ বিক্রি থাকবে। এখন মার্কেটে মানুষ আসছে মূলত ইফতারের পর। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতাদের তেমন চাপ থাকছে না। রোজা এবং গরমের কারণে মানুষ ইফতার করে মার্কেটে আসছেন।

পরিবার নিয়ে মার্কেটে আসা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ঈদের সময় ঢাকাতেই থেকেছি। এবার গ্রামের বাড়ি রংপুরে ঈদ করবো। শনিবার অফিস করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবো। তার আগে আজ সব কেনাকাটা শেষ করতে চায়। রোজা থেকে মার্কেটে ঘোরাঘুরি করা খুব কষ্টের, তাই ইফতার করে এসেছি।

মৌচাক মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা মালিহা বলেন, এখন যে গরম পড়ছে তাতে রোজা থেকে দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া খুবই কষ্টকর। তাই সন্ধ্যার পর মার্কেটে এসেছি। আগে কিছু কেনাকাটা করেছি। আজ আরও দু’টি থ্রিপিস কেনার ইচ্ছা আছে।

বিক্রি পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এ মার্কেটের ব্যবসায়ী সাদ্দাম। তিনি বলেন, গত বছর ঈদের সময় মার্কেট খুললেও বিক্রি ভালো ছিল না। লাভের বদলে লোকসান গুণতে হয়েছে। এবার পরিস্থিতি ভালো। বিক্রি ভালো হয়েছে এবং লাভও হবে। তবে গত দুই বছর যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব না।

তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ভালো বিক্রি হচ্ছে। তবে সন্ধ্যায় যেমন ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে দিনের বেলা তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ রোজা। রোজা থেকে দিনের বেলা মানুষ মার্কেটে কম আসছে।

বিক্রি পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজধানী সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সালাম বলেন, বিক্রি ভালো হচ্ছে। তবে সব ভিড় এসে পড়ছে সন্ধ্যার পর। এতে আমাদের একটু সমস্যাও হচ্ছে।

আমরা চেষ্টা করছি, দরদাম কম করে অল্প দামে পণ্য ছেড়ে দেওয়ার। ক্রেতারা যদি সবাই সন্ধ্যার পর না এসে ভাগভাগ হয়ে দিনের বেলায় আসতো তাহলে আমাদের ওপর চাপ কমতো। ক্রেতারাও ভালোভাবে দেখে কিনতে পারতেন।

যাত্রাবাড়ী থেকে রাজধানী সুপার মার্কেটে আসা মাহিম বলেন, ঈদের সময় ঢাকাতেই থাকবো। তাই একটু দেরি করে মার্কেটে এসেছি। মার্কেটে যেমন ভিড় হবে বলে ধারণা করেছিলাম, তার থেকে অনেক বেশি ভিড়। ভিড়ের কারণে পোশাক ঠিকমত দেখতে পারছি না।

তাই আজ যদি কেনাকাটা করতে পারি, আগামীকাল দিনের বেলা আসবো।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top