ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

২০মে থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ 

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২২ ১৮:১১; আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২২ ১৮:১৩

 

আগামী ২০ মে থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলবে ২০ নবেম্বর পর্যন্ত।

জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

এতে বলা হয়েছে, এবার তিন বছরের তথ্য একসঙ্গে সংগ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পূর্বে জন্মগ্রহণকারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। অর্থাৎ ১৬ বছর বয়সীদের তথ্যও নেওয়া হবে। পরে যাদের বয়স ১৮ বছর হয়েছে, তারা সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হবেন। তারা ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১৩৫ উপজেলা কার্যক্রমটি শুরু হবে তিন সপ্তাহের জন্য। এ কর্মসূচিতে ভোটার তালিকা হতে মৃত ভোটারের নাম কর্তন এবং আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরের বিষয়েও কার্যক্রম গৃহিত হবে।

তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি, ২০২২-এ যাদের জন্ম ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পূর্বে এবং বিগত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা বাদ পড়েছেন তারা নিবন্ধন করতে পারবেন। তথ্যসংগ্রহকারীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

যে কাগজ-পত্র জমা নেওয়া হবে

নিবন্ধনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূরণকৃত নিবন্ধন ফরম-২ এর সঙ্গে অনলাইন জন্ম সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) অথবা এস,এস,সি বা সমমান পরীক্ষা বা যে-কোনো পাবলিক পরীক্ষা পাশের সনদের ফটোকপি।

এছাড়াও অন্যান্য কাগজপত্র যেমন-নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র, বাড়ি ভাড়ার ট্যাক্স যে-কোনো ইউটিলিটি বিল পরিশোধের রসিদের কপি জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন।

 

ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩(কক) এ নামের সংজ্ঞায় শিক্ষা সনদসমূহের পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এর অধীন নিবন্ধিত নাম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

 

হিজড়া : সরকার বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে হিজড়া লিঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করে স্বীকৃতি দেওয়ায়, তারা ভোটার তালিকায় নতুন করে যুক্ত করতে পারবেন। তবে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তাদের শনাক্তকরণের জন্য সমাজসেবা অফিসের প্রত্যয়ন অথবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন লাগবে। এ বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি, যে তারা যেন ভোটার তালিকায় নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়।

ভোটার তালিকা হতে মৃত ভোটারের নাম কর্তন বিদ্যমান ভোটার তালিকাভুক্ত ভোটারদের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন অথচ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছেন তাদের নাম ভোটার তালিকা বিধিমালা, ২০১২-এর ২৬(৬) মোতাবেক কর্তনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ভোটার এলাকা স্থানান্তর :

এক ভোটার এলাকা হতে অন্য ভোটার এলাকায় স্থানান্তরের লক্ষ্যে ফরম-১৩ (স্থানান্তর) পূরণপূর্বক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদিসহ সরাসরি স্থানান্তরিত এলাকার থানা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দানের পর যথাযথ যাচাই-বাছাই ও তদন্ত স্বাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ভোটার এলাকা স্থানান্তর করা হবে।

এছাড়া, তথ্যসংগ্রহকারী বাড়ি বাড়ি গিয়েও ভোটার স্থানান্তরের তথ্য সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কার্যালয়ে প্রেরণ করবেন।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ:

নির্দেশনায় বলা হয়েছে-ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটারযোগ্য নারীদের রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ করে নারী জনপ্রতিনিধিদের (উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, সিটিপৌরসভার এলাকার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্যসহ নির্বাচিত মহিলা জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নেওয়া প্রয়োজন)।

সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় কমিটিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ কাজে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য তাদের উক্ত কমিটিতে দায়িত্ব পালনের আবশ্যকতা রয়েছে। বিশেষ করে তাঁরা প্রচারের কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও সহংযোগিতা প্রদান করতে পারেন।

নিবন্ধন কার্যক্রম

নিবন্ধন কেন্দ্রে ভোটাররের তথ্য সঠিকভাবে এন্ট্রির ক্ষেত্রে ডাটা এন্ট্রির পর তার তথ্যাদি মূদ্রণ করে আবেদনকারীর স্বাক্ষর গ্রহণ এবং স্বাক্ষরিত প্রিন্ট কপিটি নিবন্ধন ফরম ও অন্যান্য ডকুমেন্টস-এর সঙ্গে স্ক্যান করে সংশ্লিষ্ট ভোটাররের ডাটার সঙ্গে সংযুক্ত করে রাখতে হবে।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট ভোটাররের আইরিশ এবং ১০ (দশ) আঙুলের ছাপ গ্রহণ করতে হবে।

নিবন্ধন কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন :

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার, সিনিয়র জেলা, জেলা নির্বাচন অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যক্রমে নিবিড় সমন্বয় থাকতে হবে। তাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বয় কমিটির কার্যক্রমে সক্রিয় সমন্বিত ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

 

তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ

সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত উচ্চ বিদ্যালয় বা মাদ্রাসার শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক বা কমচারী, সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় বা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বা সহকারী প্রধান শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক বা কমচারী, প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন অফিস বা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও সরকার কতৃক অনুমোদিত কিন্ডারগার্টেন ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারী তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সুপারভাইজার নিয়োগ:

সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কলেজ বা সমপর্যায়ের মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মকর্তা, সরকারি বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় বা উচ্চ বিদ্যালয় বা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বা সহকারী প্রধান শিক্ষক বা সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন।

 

বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১১ কোটি ৩২ লাখ ৯১ হাজার ৭৬৯ জন ভোটার রয়েছেন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৯৮ হাজার ২৯৬ জন। আর পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৯৩ হাজার ১৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৪৫৪ জন।

সবচেয়ে বেশি তথ্য রয়েছে ঢাকা অঞ্চলের। এ অঞ্চলের মোট এক কোটি ৬৮ লাখ ৯১ হাজার ৫৫৭ জনের তথ্য রয়েছে ইসির কাছে। সবচেয়ে কম রয়েছে ফরিদপুর অঞ্চলে ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ২০৯ জন।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৭ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ হাতে নেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর ২০০৯, ২০১২, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য হালনাগাদ করা হয়। ভোটারদের তথ্যগুলো ইসির সার্ভারে সংরক্ষিত রয়েছে। আর সেখান থেকে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top