ঢাকা সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮

বিসিবির এজিএম শুরু: গেল ১৪ বছরে হয়েছে মোটে ৩বার

এম.এ রনী | প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২১ ১৫:১৬; আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২১ ২২:৪৯

বিসিবি'র এজিএম অনিয়মিত, গেল ১৪ বছরে হয়েছে মোটে ৩বার

 

বিসিবির গত ৪ বছরের ভুল ত্রুটি সংশোধন করতে হবে এক ‘এজিএমে’ কেননা গত ১৪বছরে বিসিবির এজিএম অনিয়মিত, গেল ১৪ বছরে হয়েছে মোট ৩বার। অথচ

গঠনতন্ত্রে বার্ষিক সাধারণ সভা হওয়ার কথা ছিল নিয়মিত বলা আছে। আর বর্তমান কমিটির মেয়াদও শেষ হচ্ছে এ বছরই।

 

এজিএম বা বার্ষিক সাধারণ সভা নামেই বোঝা যায় এই সভা হয় প্রতিবছর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর এজিএম নিয়মিত হওয়ারই কথা এই সভা। যদি প্রতিবছর করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অন্তত ২বছরে মধ্যে একবার আয়োজন করাই নিয়ম। কিন্তু এজিএম আয়োজনে ক্রীড়া ফেডারেশন ব্যর্থ হলে, তাদের বিরুদ্ধে  আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করার তেমন কোন শর্ত নেই। হয়তোবা সেকারণেই সম্ভবত এড়িয়ে গেছে ‘বিসিবির’ মতো হাই-প্রোফাইল প্রতিষ্ঠান।

 

২০১৭ সালে নাজমুল হাসান পাঁপনের কমিটি দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেবার আগে সর্বশেষ হয় এজিএম হয়। আর নানা কারণে গত প্রায় চার বছরে এজিএম আয়োজন করতে পারেনি বিসিবি। বোর্ডের দশম সভা শেষে গত ২৭জুলাই-২০২১ বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও। করোনার কারণে তা আবারও পিছিয়ে যায়।

 

এবার এজিএমের সব আয়োজনই চুড়ান্ত, তবে আমেজ নেই বললেই চলে। বর্তমান পরিচালনা পরিষদের ভুল ত্রুটি বা অনিয়ম নিয়ে কথা বলার মতো কাউন্সিলরের অভাব। এবারের এজিএমে অংশ গ্রহন করার কথা ১৬৬জন কাউন্সিলরের। এদের বেশীর ভাগই বর্তমান পরিচালনা কমিটিরই ঘনিষ্ঠজন। তাই বোর্ডে ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া বা যে কোন বিষয় নিয়ে কথা বলার আগ্রহ নেই অনেকেরই। 

 

এজিএম-কে বলা হয় পরিচালনা পরিষদের জবাবদিহিতার জায়গা। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই? তবে পরিচলনা পরিষদের অন্যতম সদস্য নাইমুর রহমানের প্রত্যাশা- ‘তবে ভূল শুধরে আগের সাফল্যগুলোকে আরও জলমলে করার প্রত্যয় নেওয়া যাবে এই এজিএমে।

 

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মতো জায়গায় নিয়মিত দীর্ঘসময় আছি বলেই আমরা অনেক উন্নতি করতে পেরেছি। এটা একটি নিয়মিত প্রোসেস। যদি বোর্ডে ধারাবাহীকতা থাকে, সেখানে উন্নতিও ধারাবাহিক হবে।

 

শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বার্ষিক সাধারণ সভা। রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে দুপুর ১২টায় শুরু হয়েছে এজিএম। 

 

বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) প্রায় চার বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই এজিএম। প্রতি অর্থবছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজনের কথা থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সবশেষ এজিএম হয়েছে ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর।

 

বিসিবির গঠনতন্ত্রের ১২.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতি অর্থবছর সমাপ্ত হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যেই আয়োজন করতে হবে এজিএম। কিন্তু নিয়মিত সেটা আয়োজন করতে পারেনি বিসিবি। গত ১০ বছরের মধ্যে এটি তৃতীয় এজিএম।

 

বিলম্বের কারণ ব্যাখা দিতে গিয়ে নিজামউদ্দিন বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা তো থাকেই।  আমাদের সংস্থার ধরণটাই এমন যে নানা রকমের কার্যক্রম থাকে। এসবের সাথে কোভিড পরিস্থিতি, যদিও এভাবে বলা ঠিক হবে না। সবকিছু মিলিয়েই বিলম্বটা হয়েছে।

 

এজিএমে সারাদেশের বিসিবির ১৬৬জন কাউন্সিলর অংশ নেবেন। সভাপতিত্ব করবেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ইতোমধ্যে কাউন্সিলররা রেডিসন ব্লুতে অবস্থান করছেন।  তারা শেষ তিন অর্থবছরের বাজেটের অডিট রিপোর্ট পাস করবেন। তাদের জন্য উপহারের আয়োজনও রেখেছে ক্রিকেট বোর্ড। প্রত্যেক কাউন্সিলর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার চেক ও একটি করে ল্যাপটপ পাবেন।

এজিএমের কার্যবিবরণী: 


১. সম্মানিত সদস্যদের আসনগ্রহণ চলবে ১১.৩০ থেকে ১১.৫০ পর্যন্ত। বোর্ড সভাপতি ও পরিচালকদের আসনগ্রহণ ১১.৫৫ মিনিটে। পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াতের মধ্যে দিয়ে দুপুর ১২টায় শুরু হবে এজিএমের মূল কার্যক্রম। এরপর বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে ১২.০৫টায়।

 

২. সম্মানিত কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বোর্ড সভাপতির স্বাগত বক্তব্য ১২.১০ মিনিটে। এরপর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় এবং জয়ী দলের উপর অডিও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন পর্ব, যেটি শুরু হবে ১২.৩০ মিনিটে। সবশেষ বার্ষিক সাধারণ সভার আলোচ্য সূচি আলোচনা ও অনুমোদন দিয়ে মূল পর্ব শুরু দুপুর ১২.৩৫ মিনিটে।

 

৩. বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১২.১ অনুযায়ী বার্ষিক সাধারণ  সভা ২০২১ আয়োজনে অনুমোদন। ৪. গত ২ অক্টোবর ২০১৭ অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন। ৫. গত ২ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন।

 

৬. পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক পেশকৃত পূর্ববর্তী বছর-সমূহের (২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০) কার্যক্রমের প্রতিবেদন বিবেচনা এবং অনুমোদন। ৭. পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত ও অর্থ কর্মকর্তা কর্তৃক পূর্ববর্তী বছর-সমূহের (২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০) আয়-ব্যয় সংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন, পর্যালোচনা ও অনুমোদন। ৮. বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চলতি আর্থিক সালের (১ জুলাই ২০২১ হইতে ৩০ জুন ২০২২ পর্যন্ত অর্থ বছরের) বাজেট পর্যালোচনা ও অনুমোদন।

৯. বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পূর্ববর্তী ও চলতি অর্থবছর সমূহের (২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০) আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসাব পরীক্ষার জন্য নিরীক্ষক ও পারিতোষিক নির্ধারণ। ১০. সভাপতি অথবা সাধারণ পরিষদের কোন উত্থাপিত কোন জরুরি বিষয় নিষ্পত্তি। ১১. বোর্ড কার্যক্রমের উপর কাউন্সিলরদের আলোচনা। ১২.বোর্ড সভাপতি কর্তৃক বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২১-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা।

দুপুর ১২টায় শুরু হওয়ার পর মধাহ্নভোজের মাধ্যমে শেষ হবে এজিএম। দুপুর ২টায় এজিএমের সার্বিক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে বিসিবি। রেডিসন ব্লুতেই এই সংবাদ সম্মেলনের কথা এক বিবৃতি দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে বোর্ডের পক্ষ থেকে।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top