ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

ভালো হলে ভালো, খারাপ হলে খারাপ: তৌকীর আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২১ ০২:৩৪; আপডেট: ৫ আগস্ট ২০২১ ১৫:২৭

শুটিংয়ে একসঙ্গে পরী, তৌকীর, মম ও শ্যামল মাওলা
 

যে কোনও ছবি মুক্তির সময় এমন বার্তা বা অনুরোধ থাকে নিরানব্বই দশমিক আট নয় ভাগ নির্মাতা-শিল্পী-কুশলীদের বয়ানে। বাকি শূন্য দুই ভাগের মধ্যেও থাকে নানা বৈচিত্র্য। আগাম প্রদর্শনী তো দূরের কথা- কেউ কিছুই বলেন না। কেউ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ‘নো সমালোচনা’, ‘নো স্পয়লার’! কেউ তো এটাও বলেন, ‘এই ছবি বাম্পার হিট। তা না হলে বানানোই ছেড়ে দিবো!’

তবে অবশিষ্ট শূন্য দুই ভাগের নানামাত্রিক আচরণের সঙ্গে এবার নতুন মাত্রা টেনে দিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও মেধাবী নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। তার নতুন ছবি ‘স্ফুলিঙ্গ’ মুক্তির দুদিন আগে বুধবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় শহরের উল্লেখযোগ্য সাংবাদিক, শিল্পী ও সমালোচকদের ডেকে নিলেন বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স। একসঙ্গে দুই হলে প্রদর্শন করালেন ছবিটি।
প্রদর্শন শুরুর আগে স্পষ্ট ভাষায় সবার উদ্দেশ্যে বললেন নতুন কথা, ‘ছবিটি দেখার পর ভালো লাগলে পরিচিতদের সেই বার্তাটি দেবেন। আর যদি খারাপ লাগে, তবে সেই বার্তাটিও সবাইকে জানাবেন। দর্শক হিসেবে আপনার দৃষ্টিতে যে ছবি খারাপ, সেটি তো আপনার পরিচিতদের দেখার দরকার নেই। আমি নিজেও চাই না, খারাপ ছবি মানুষ দেখুক। ফলে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনা নিতেও আমি প্রস্তুত।’

এটি তার নির্মাণের ৭ নম্বর ছবি। আগের ৬টি ছবি থেকে তিনি দারুণ প্রশংসা পেয়েছেন দর্শক-সমালোচকদের। যদিও এমন প্রশংসায় তিনি খুব প্রীত নন। এখানেও নির্মাতে হিসেবে তিনি যে আলাদা জাতের, সেটির ছাপ রাখলেন মন্তব্যে, ‘এর আগে ৬টি ছবি নির্মাণ করে প্রশংসা পেয়েছি। একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি, ছবি ভালো হলে সেটার কৃতিত্ব আমার ভাগে এসে পড়ে। অথচ একা কোনোদিন ভালো ছবি নির্মাণ সম্ভব নয়। সবাই মিলে এক হলেই তবে একটি ভালো ছবির জন্ম সম্ভব। আমি আমার ৭টা ছবিই নির্মাণ করার চেষ্টা করেছি সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে। যেখানে আমার একার ক্রেডিট নেই।’

বিশেষ প্রদর্শনীর আগে শ্যামল মাওলা, তৌকীর আহমেদ ও জাকিয়া বারী মমস্বপ্নের বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রযোজনায় নির্মিত ‘স্ফুলিঙ্গ’ চলচ্চিত্রের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে তরুণদের একটি ব্যান্ড দলকে ঘিরে। এখানে ব্যান্ডশিল্পী হিসেবে দেখা যাবে শ্যামল মাওলা ও জাকিয়া বারী মমকে। ছবিতে শ্যামলের বিপরীতে আছেন পরীমনি। আরও আছেন আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুল ইসলাম সাচ্চু প্রমুখ।

ছবির সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে আছেন পিন্টু ঘোষ। তিনি এতে অভিনয়ও করেছেন।

দি অভি কথাচিত্রের পরিবেশনায় ‘স্ফুলিঙ্গ’ মুক্তি পাচ্ছে ২৬ মার্চ দেশের ৩৫টি প্রেক্ষাগৃহে। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর এটাই কোনও সিনেমার সর্বোচ্চ হলে মুক্তির ঘটনা।

বুধবার রাতের বিশেষ প্রদর্শনীতে নির্মাতা ছাড়াও হাজির ছিলেন শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম প্রমুখ। হাজির হতে পারেননি ছবিটির অন্যতম চরিত্রে অভিনয় করা পরীমনি। তিনি বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন।

ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা শ্যামল মাওলা সবাইকে ছবিটি দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এই ছবিতে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে, যে কবিতা ও গান ভালোবাসে। সমানভাবে দেশটাকেও। ছবিটির গল্পে দারুণ একটা শক্তি আছে। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটানোর দারুণ প্রয়াস দেখিয়েছেন তৌকীর ভাই।’

অন্যতম অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম বলেন, ‘এটি যেমন মুক্তিযুদ্ধের গল্প তেমনি এই সময়েরও। তৌকীর ভাইয়ের নির্মাণ সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি ম্যাজিক জানেন। পর্দায় সেই ম্যাজিকটাই প্রয়োগ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে এ ছবিতে।’

বুধবার রাতে ‘স্ফুলিঙ্গ’র প্রদর্শনী শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের কণ্ঠে ছিলো তৃপ্তির ঢেকুর। বেশিরভাগের ভাষ্য এমন- ৫০ বছর আগের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ফিলোসফিকে নিয়ে বর্তমান তারুণ্যের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটানোর মতো অনবদ্য কাজটি সিনেমার পর্দায় কেউ করেননি আগে। যেটা তৌকীর আহমেদরা করে দেখালেন এই ছবির মাধ্যমে। এখানে ১৯৭১ ও ২০২১ সাল যেন পাশাপাশি হেঁটেছে। একইভাবে হেঁটেছে প্রেম ও দেশপ্রেম! ছবিটি সব বয়সীদের দেখা দরকার। গল্পটা চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।

শো ভাঙার পর অতিথিদের এমন বক্তব্যে স্পষ্ট হলো, ছবিটি প্রদর্শনে আগে তৌকীর আহমেদের কণ্ঠে এতো জোর কোথা থেকে এলো! হুম, দর্শন ও স্টোরি টেলিং।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top