ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮

শতকোটি টাকার মালিক তুহিন সিদ্দিকী অমি অবশেষে ফেঁসে গেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২১ ০২:০৪; আপডেট: ১৫ জুন ২০২১ ০২:০৬

মানবপাচারকারী, হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরাচালানকারী, হেরোইন-ইয়াবা ব্যবসায়ী তুহিন সিদ্দিকী অমি অবশেষে ফেঁসে গেলেন। গতকাল সোমবার পরীমনি কেলেঙ্কারীর মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। তার গ্রেপ্তারে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছর আগেও অমির বাবা তোফাজ্জল হোসেন ওরফে আদম তোফাজ্জল ছোট একটি মুদি দোকান দিয়ে কোনমতে সংসার চালাতেন। অথচ মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি রাজধানীর উত্তরা এলাকার আশকোনা, গাওয়াইর, উত্তরখান, দক্ষিণখান এলাকায় হুন্ডি, মানবপাচার, স্বর্ণচোরাচালানসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। 


কেবল তাই নয় অমি আশকোনা এলাকায় বখাটেদের নিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে তিনি উঠতি বয়সী ছেলেদের মদ, ইয়াবা সুন্দরী নারীদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করতেন তার আশকোনার বাসায়। এলাকাবাসী এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কখনো মুখ খুলতো না। 

অভিযোগ উঠেছে, এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে অনেকের জমি লিখিয়ে নিয়েছেন টাকা পয়সা ছাড়াই। তিনি এলাকা এক বিশাল সন্ত্রাসবাহিনী গড়ে তুলেন।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অমি ও তার বাবা তোফাজ্জল হোসেন ওরফে আদম তোফাজ্জল এক সময় বিএনপি ও জামাতের অর্থ জোগানদাতা ছিলো। অথচ সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে তারাও আওয়ামীলীগার বনে গেছেন।
এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, অমি ও তার বাবা তোফাজ্জল হোসেন কমপক্ষে ৩০বার জেল খেঁটেছেন মানবপাচার, স্বর্ণচোরাচালানকারী, নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িত হয়ে। প্রতিবার জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজ করেছেন। গড়ে তুলেছেন শত শত কোটি টাকার সম্পদ ।
অমির এক সহপাঠী জানায়, একটা সময় ছিলো অমিরা খুব কষ্ট করে কোনমতে সংসার চালাতো। অথচ কয়েক বছরের মধ্যে কি এমন আলাদিনের চেরাগ পেলো যে রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন?


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অমির চলাফেরা রাজা বাদশাদের মতো? তিনি চড়েন কোটি টাকার একাধিক গাড়ীতে।


জানা গেছে, রাজধানীতে রয়েছে তার প্রায় ১ ডজনের মতো আলীশান বাড়ী, উত্তরখানের হেলাল মার্কেট এলাকায় একটি রেস্ট হাউস গড়ে তোলেন। যেখানে নিয়মিত নারী, মদ জুয়া খেলা চলতো প্রতিনিয়ত।

এছাড়াও আশকোনায় তিনি গড়ে তোলেন একটি ট্রেনিং সেন্টার। মূলত এই ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশে নারীদের পাচার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।


পরীমনির মামলার প্রধান আসামি নাসির ইউ মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন পাঁচজন। পরীমনির ভাষ্যমতে, ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুটি গাড়িতে করে উত্তরার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। পথে অমি নামের তাঁর সঙ্গীদের একজন দুই মিনিটের কাজের কথা বলে তাঁদের বোট ক্লাবে নিয়ে যান। 
পরীমনির সঙ্গে এই দলে তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জিমিও ছিলেন। ক্লাবে ভেতরে যখন পরীমনির ওপর নির্যাতন চালানো হয়, সে সময় প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন জিমি। ওই জিমির মাধ্যমেই বছর দুয়েক আগে অমির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল পরীমনির।
এই চিত্রনায়িকা বলেছেন, জিমির বন্ধু পরিচয়ে অমি তাঁদের বাসায় আসা যাওয়া করতেন। সেভাবেই তাঁকে নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া।
পরীমনি সোমবার সকালে সাভার থানায় তাঁকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করার কয়েক ঘণ্টা পর প্রধান আসামি নাসির (৫০), অমিসহ (৪১) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তখনও অমির পুরো নাম আলোচনায় আসেনি। পরীমনি যে মামলা করেছেন, সেখানে শুধু অমি নামই উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকা বোট ক্লাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নাসির ইউ মাহমুদকে (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ক্লাবের নির্বাহী কমিটি থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। সেখানেই অমির পুরো নাম পাওয়া যায়। তিনি তুহিন সিদ্দিকী অমি। তিনিও এই ক্লাবের সদস্য। তাঁর সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি এবং নাসির ইউ মাহমুদকে কেন্দ্র করে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
পরীমনির মামলায় আসামিদের মধ্যে শুধু নাসির ও অমির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদের দেখলে চিনতে পারবেন বললেও তাঁদের নাম বলতে পারেননি পরীমনি।
ঢাকা বোট ক্লাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার জন্য নাসির ও অমির পাশাপাশি শাহ এস আলম নামের আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই তিনজনেরই সাধারণ সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। তবে শাহ আলম সম্পর্কে এখনো পুলিশের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোববার এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি বোট ক্লাবে তাঁকে মদ্যপানের জন্য জোরাজুরির ঘটনায় নাসিরের সঙ্গে আরেকজন ‘বয়স্ক লোকের’ কথা বলেছিলেন। তিনিই শাহ আলম কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরীমনির ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও করেছে ঢাকা বোট ক্লাব। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top