ঢাকা রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮

বার সভাপতির রুমের সামনে আইনজীবীদের দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ২ জুন ২০২১ ০১:১১; আপডেট: ২০ জুন ২০২১ ১৮:৪৮

সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত (বার অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু মারা যাওয়ার পর ওই পদ নিয়ে সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে মৃদু উত্তেজনা চলছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আজ।

মঙ্গলবার (১ জুন) দুপুরে আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে বিএনপি ও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে একই জায়গায় মিছিল-শ্লোগান দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের প্ল্যান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষে আসেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। তাকে স্বাগত জানাতে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। প্রায় এক ঘণ্টা সভাপতির কক্ষে অবস্থানের পর এএম আমিন উদ্দিন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ফেরেন।

এরপর সভাপতির কক্ষে এবং কক্ষের সামনে অবস্থান নেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। সে সময় একই স্থানে ধীরে ধীরে জড়ো হতে থাকেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। এক পর্যায়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ‘স্বঘোষিত সভাপতি মানি না, মানবো না’সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরাও পাল্টা শ্লোগান দিতে শুরু করেন। টানা প্রায় এক ঘণ্টার পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও শ্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গন।

এক পর্যায়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সভাপতির কক্ষের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন প্রদক্ষিণ করেন।

সভাপতির পদ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও শ্লোগান নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, সভাপতির পদ নিয়ে নোংরামি হচ্ছে। এ ধরনের রাজনীতি আমি চরমভাবে ঘৃণা করি। আমি সভাপতি থেকেই বারের সব উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।

 

তিনি আরও বলেন, এক মাস পর সভাপতির কক্ষে গিয়েছিলাম। তবে তিনি সভাপতির চেয়ারে বসেননি বলেও জানান। যদিও সভাপতির কক্ষের সামনে তার নামফলক টাঙানো আছে।

গত ৪ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনের নাম ঘোষণা করে কার্যনির্বাহী কমিটির আওয়ামীপন্থী অংশ। তারা দাবি করেন- সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় এএম আমিন উদ্দিন কণ্ঠভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট বারের প্যাডে এক বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যা বলেন, তার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১ জুন) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি সমিতির সভাপতি পদে এএম আমিন উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করলে উপস্থিত সদস্যরা করতালি ও কণ্ঠভোটে তার প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। ফলে এএম আমিন উদ্দিনকে ২০২১-২২ মেয়াদের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

Bar-2.jpg

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এএম আমিন উদ্দিন সভাপতি পদে ২০২১-২০২২ মেয়াদের অবশিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে নির্বাচিত সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যাসহ সাতজন কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য একমত পোষণ করে স্বাক্ষর করেছেন।

অপরদিকে বিএনপিপন্থী প্যানেল থেকে নির্বাচিত সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের ছয়জন সদস্য স্বাক্ষর করেননি।

পরে সমিতির প্যাডে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ সাধারণ সভায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে সভাপতির পদটি শূন্য হয়।

আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে সভাপতি নির্বাচনের করণীয় ঠিক করতে গত ৪ মে বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। সভার শুরুতে সাধারণ সভার সভাপতিত্ব নিয়ে আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। এ অবস্থায় সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ঘোষণা দেন যে, বারের সংবিধান অনুযায়ী- আমি এ সভা পরিচালনা করবো। তখন এক পক্ষ বিরোধিতা শুরু করলে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের সহসভাপতি মুহাম্মদ শফিক উল্লাহ ডায়াসে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন, তিনি সভার সভাপতিত্ব করবেন।

ওই দিন সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, উনাকে সভাপতিত্ব করার কোনো কার্য বিবরণী পাস হয়নি। সিনিয়র আরেকজন সহ-সভাপতি আছেন। তখন শফিক উল্লাহ বলেন, আমি আজকের সভার সভাপতি। এই সভা থেকে ঘোষণা করছি- আজ থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন। তখন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা তাকে সমর্থন দেন।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করতে থাকেন। তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন- কণ্ঠভোটে নয়, নির্বাচন চাই। এক পর্যায়ে মিলনায়তনের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। মঞ্চের ওপর ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

তখন সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সাধারণ সভা করার মতো পরিবেশ-পরিস্থিতি না থাকায় সভা মুলতবি করা হলো। মূলত তুমুল হট্টগোলের মধ্য দিয়ে বিশেষ সাধারণ সভা শেষ হয়।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top