ঢাকা রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮

সেরামের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে ভাবতে বলল সংসদীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ১০ মে ২০২১ ০১:২৬; আপডেট: ২০ জুন ২০২১ ১৮:০৬

জাতীয় সংসদ ভবন

চুক্তি অনুযায়ী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা না দেওয়ায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না তা দেখতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। 

রোববার (৯ মে) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ভারত থেকে চুক্তি অনুযায়ী টিকা না আসার বিষয়ে আলোচনার পরে বমিটির পক্ষ থেকে এ সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই সংসদীয় কমিটি বলেছিল, একাধিক সোর্স থেকে টিকা আনার ব্যবস্থা করতে হবে। একটা সোর্স থেকে নিলেন কেন? এটা আমরা জিজ্ঞেস করেছি।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় আমাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে, এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তবে তারা এখন একের অধিক সোর্স থেকে টিকা আনার চেষ্টা করছে। ভারত থেকেও আশা করছে জুলাইয়ে পাবে। আমেরিকা থেকে পাওয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়া ও চায়না থেকে আনার চেষ্টাতো করছেই।

সভাপতি বলেন, আমরা সেকেন্ড ডোজ কমপ্লিট করার জন্য ভারতের যে টিকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত আছে সেটা আনা যায় কি না সেই উদ্যোগ দ্রুততার সঙ্গে নিতে বলেছি। ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট যে আমাদের দিলো না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবেন কি না সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে বলেছি।

বাংলাদেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে গণটিকাদান শুরু করলেও দুই চালানের পর আর দিতে পারেনি এই টিকা উৎপাদনকারী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। ফলে সরকার নতুন করে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ রেখেছে। যে টিকা এখন মজুদ আছে, দ্বিতীয় ডোজও সবার দেওয়া সম্ভব হবে না।

সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে সরকারের কেনা এবং ভারতের পাঠানো উপহারের টিকা মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ।

সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে গত বছরের নভেম্বরে চুক্তি করে বাংলাদেশ। বেক্সিমকো ফার্মা ওই টিকা সংরক্ষণ ও সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে ছয় মাসে তিন কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। ভারতে ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যে বিপুল চাহিদা তৈরি হওয়ায় আর বিশ্বজুড়ে টিকার সঙ্কটের কারণে ফেব্রুয়ারির চালানে বাংলাদেশ ২০ লাখ ডোজ হাতে পায়। এরপর আর কেনা টিকা হাতে আসেনি।

ফারুক খান বলেন, কোভিডের ভ্যাকসিন কেন আনা যাচ্ছে না এটা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলেছিলাম- উনারা চেষ্টা করার কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা বলেছি, চেষ্টা করলেতো হবে না। এই মুহূর্তে আমরা একটা সংকটের মধ্যে পড়ে যাচ্ছি। যারা এক ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের দ্বিতীয় বার না পেলে তো হবে না।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে জুলাই মাসের দিকে ভারত থেকে টিকা আসবে। যুক্তরাষ্ট্রে কিছু টিকা অতিরিক্ত আছে। তারা সেখান থেকেও আনার চেষ্টা করছে। এছাড়া চীন ও রাশিয়া থেকে টিকা আসবে এবং সেটা হলে সমস্যার সমাধান হবে।

ভারতের ভাইরাসের ধরন বাংলাদেশে পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কমিটির সভাপতি বলেন, আমরা ভারতের সাথে লকডাউনটা আরও শক্তিশালী করতে বলেছি। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিজিবিকে আরও শক্তিশালী টহল দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকে ভ্যাক্সিন পাবার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মে মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে সংসদীয় কমিটিকে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে ইরাকের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং ইরাকে কর্মরত বাংলাদেশি মানবসম্পদকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের জন্য কমিটি মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে।

ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, হাবিবে মিল্লাত ও কাজী নাবিল আহমেদ অংশ গ্রহণ করেন।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top