ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

মেহেদী ৪ এবং নাসুমের ৩ইউকেটের সাথে তামিমের ফিফটি-তে দাপুটের সাথেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ

দাপটের সাথেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২২ ১৬:২৫; আপডেট: ৪ অক্টোবর ২০২২ ০২:৪৫

নাসুম, মিরাজের স্পিন ভেল্কিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ। বাঁ-হাতি নাসুম আহমেদ ও অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের স্পিন ভেলকিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো সফরকারী বাংলাদেশ।

 

গায়ানার  প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বুধবার নাসুম-মিরাজের সাত উইকেট শিকারে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।  এই জয়ে  তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে টাইগাররা।

এর আগে প্রথম ওয়ানডে ৬ উইকেটে জয় পাওয়া বাংলাদেশ দলের  লক্ষ্য এখন  ক্যারিবিয়দের হোয়াইটওয়াশ করা।

এই নিয়ে টানা পাঁচ ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। আর বিদেশের মাটিতে টানা তৃতীয় সিরিজ জয় টাইগারদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচটি সিরিজের মধ্যে তিনটিতেই জিতলো বাংলাদেশ।

সিরিজ জয় নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। একাদশে একটি পরিবর্তন, তাসকিন আহমেদের জায়গায় মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে একাদশ সাজায় বাংলাদেশ।

মোসাদ্দেককে দিয়েই বাংলাদেশের বোলিং আক্রমন শুরু করেন অধিনায়ক তামিম। প্রথম ওভারে ১টি চারে ৫ রান দেন মোসাদ্দেক। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেও ১টি চার আসে মোসাদ্দেকের ডেলিভারি থেকে। ২ ওভারে ১২ রান দেয়ায়, আক্রমন থেকে মোসাদ্দেককে সরিয়ে নিয়েছিলেন তামিম। এরপর মুস্তাফিজুর রহমান-নাসুম আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ আক্রমনে ছিলেন। কিন্তু ১০ ওভার পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গতে পারেননি তারা। অবশ্য দ্বিতীয় ওভারে রান আউট ও পঞ্চম ওভারে মিরাজের বলে স্টাম্পিংয়ের ভালো সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। আর অষ্টম ওভারের ওপেনার শাই হোপকে আউট করেন নাসুম। আম্পায়ার আউটও দেন। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান হোপ।

তবে ১১তম ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে বোলিং-এ এসেই উইকেট তুলে নেন মোসাদ্দেক। ঐ ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিতে ২টি চারে ৩৬ বলে ১৭ রান করা কাইল মায়ার্সকে বোল্ড করেন মোসাদ্দেক।

নিজের চতুর্থ ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পান নাসুম। ৫ রান করা শামারাহ ব্রুকসকে বোল্ড করেন নাসুম।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেট শিকারের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি নাসুমকে। নিজের ষষ্ঠ ওভারে দুই উইকেট নেন নাসুম। ঐ ওভারে নাসুমের চতুর্থ বলটি স্লগ সুইপ করতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন হোপ। মিড-উইকেটে সেই ক্যাচ নেন মোসাদ্দেক।

ওভারের শেষ বলে পুরানের উইকেট ভাঙ্গেন নাসুম। নিজের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বল পুরানের গ্লাভসে লেগে উইকেটে আঘাত হানে। ১টি চারে ৪৫ বলে হোপ ১৮ ও ১ বল খেলে শূন্য হাতে থামেন পুরান। এমন অবস্থায় ১৮ ওভারে ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সেই চাপকে সড়ানোর চেষ্টা করেন ব্রান্ডন কিং ও রোভম্যান পাওয়েল। জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা। প্রায় আট ওভার ক্রিজে কাটিয়েও দেন কিং ও পাওয়েল। ২৬তম ওভারে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। শরিফুলের বল লেগ সাইডে ফ্লিক করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন পাওয়েল। সেটি হাতের মুঠোয় নিতে ভুল করেননি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১৯ বলে ২টি চারে ১৩ রান করেন পাওয়েল। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৪৪ বলে ২৪ রান করেন পাওয়েল ও কিং।

দলীয় ৬৯ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে পাওয়েলের আউটের পর মিনি ধস নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসে। এরপর ৮৬ রানে নবম উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। পতন হওয়া চারটি উইকেটের তিনটিই নেন মিরাজ। অন্যটি রান আউট হয়। মিরাজের শিকার হন- ১১ রান করা কিং, ৪ রান করা রোমারিও শেফার্ড ও রানের খাতা খুলতে না পারা আলজারি জোসেফ। ২ রান করে রান আউট হন আকিল হোসেন।

প্রথম ওয়ানডেতে ১১০ রানে নবম উইকেট হারিয়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর শেষ উইকেটে এন্ডারসন ফিলিপ ও জেইডেন সিলেস ৩৯ রান তুলেছিলেন। এ ম্যাচেও শেষ উইকেটে ওমনই জুটি গড়ার চেষ্টা করেন অন্য দুই ব্যাটার কিমো পল ও গুদাকেশ মোতি। ভালোই এগোচ্ছিলেন তারা। তবে ৩৫তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেজ ছেঁটে ফেলেন মিরাজ। ৬ রান করা মোতিকে লেগ বিফোর আউট করেন মিরাজ। ফলে ৩৫ ওভারে ১০৮ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান (অলআউট) ক্যারিবীয়দের। ২৪ বলে ৪টি চারে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন পল।

বাংলাদেশের মিরাজ ৮ ওভারে ২৯ রানে ৪টি ও নাসুম ১০ ওভারে ১৯ রানে ৩টি উইকেট নেন। মোসাদ্দেক-শরিফুল ১টি করে উইকেট নেন।

১০৯ রানের জবাবটা দিতে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস শুরু করেন দুই বাঁ-হাতি তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের ম্যাচে তিন নম্বরে নেমেছিলেন শান্ত। শান্তকে নিয়ে দেখেশুনে খেলতে থাকেন তামিম।

৫ ওভারে ১৩ রান তুলেন শান্ত ও তামিম। কোন বাউন্ডারি বা ওভার বাউন্ডারি ছিলো না। অবশেষে ষষ্ঠ ওভারে বাউন্ডারির দেখা পায় বাংলাদেশ। আকিলের বলে ওভার মিড উইকেট দিয়ে চার মারেন তামিম। পরের ওভারের শেষ বলে আবারও তামিমের ব্যাটে চার। আর অষ্টম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারির দেখা পান শান্ত। ১০ম ওভারে নিজের দ্বিতীয় চার মারেন শান্ত। ফলে ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৪১ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

১৩তম ওভারে তামিম-শান্তর জুটি ভাঙ্গেন স্পিনার মোতি। মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আকিলের হাতে ক্যাচ দেন শান্ত। ২টি চারে ৩৬ বলে ২০ রান করেন শান্ত।

দলীয় ৪৮ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর ক্রিজে আসেন আগের ম্যাচের ওপেনার লিটন। লিটনকে পেয়ে, মারমুখি হয়ে উঠেন তামিম। বাদ যাননি লিটনও। বেশ কয়েকটি দারুন শটে বাউন্ডারি আদায় করে নেন তামিম-লিটন। ফলে ২০তম ওভারেই তিন অংকে পৌঁছায় বাংলাদেশের স্কোর। ২১তম ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারি দিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তামিম। ঐ চারে ২২৭ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫৩তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান তামিম। তামিমের চারে জয় নিশ্চিতের সাথে-সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা দশম জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

৭টি চারে ৬২ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন তামিম। ৬টি চারে ২৭ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন লিটন। ১০ ওভারে ৪ মেডেনে ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন নাসুম। আগের ম্যাচেই অভিষেক হয়েছিলো নাসুমের। ৮ ওভারে ৩ মেডেনে ১৬ রান দিয়েছিলেন তিনি।

আগামী ১৬ জুলাই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

ফল : বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : নাসুম আহমেদ (বাংলাদেশ)।
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।  




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top