ঢাকা রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

আমার বিশ্বাস দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ হবে না:সেফেরিন

ক্রীড়া ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জানুয়ারী ২০২২ ১৯:২৪; আপডেট: ১ জানুয়ারী ২০২২ ১৯:২৫

দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ হবে না। ফিফা বড় এক টোপ দিয়েছে তার সদস্যদের। চার বছর পর বিশ্বকাপ আয়োজন করে আর মন ভরছে না ফিফার। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাইছে, দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজন করে নিজেদের তহবিল বাড়িয়ে নিতে। আর নিজেদের এই ইচ্ছা পূরণ করতে গণতান্ত্রিক পন্থা ব্যবহার করতে চাইছে তারা। সিংহভাগ সদস্যকে এতে রাজি করিয়ে পাস করিয়ে নিতে চাইছে সে প্রস্তাব। এরই মধ্যে জানিয়েছে, এভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করলে প্রতি চার বছরে বাড়তি ৪৪০ কোটি ডলার আয় হবে ফিফার। আর এই অর্থ সব সদস্যের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।

 

 

কারও যেন ‘কষ্ট’ করে হিসাব করতে না হয়, এই প্রস্তাবে প্রতিটি ফেডারেশন কত পাবে, সেটাও জানিয়েছে ফিফা। ২১১টি ফেডারেশনের জন্যই লোভনীয় প্রস্তাব পাঠিয়েছে তারা। প্রতি চার বছরের চক্রে বর্তমানে ফেডারেশনগুলো ৬০ লাখ ডলার পায়। বিশ্বকাপের চক্র বদলালে ফেডারেশনগুলো ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাবে। বাংলাদেশি মূল্যমানে যা ২১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা! এমন প্রলোভন পেয়ে ‘না’ বলতে পারবে কয়টি ফেডারেশন?

কিন্তু বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণ যারা, তারাই যদি বিশ্বকাপে না থাকে? এমনটা হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। কারণ, ইউরোপিয়ান ফুটবলের হর্তাকর্তা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দর সেফেরিন বলে দিয়েছেন, কোনোভাবেই দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভব নয়।

উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দর সেফেরিন।

 

এস্পো টোয়েন্টি টোয়েন্টি দুবাই ফেয়ারে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন সেফেরিন। ফিফাকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে। আর এ দুই মহাদেশই বিশ্বকাপ জিতেছে।’ সেফেরিন অবশ্য এর আগেই এ ব্যাপারে ফিফাকে সতর্ক করেছেন, তবে অন্যভাবে।

 

 

উয়েফা আর কনমেবল কিছুদিন আগে প্রস্তাব দিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে উয়েফা নেশনস লিগে যোগ দেবে লাতিন আমেরিকার ১০ দল। নেশনস লিগের শীর্ষ ধাপ অর্থাৎ ইউরোপের সেরা ১৬ দলের সঙ্গে যোগ দেবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ কনমেবলের ৬ দল। আর বাকি ৪ দল নেশনস লিগের পরের ধাপে অংশ নেবে।

 

ইউরোপ ও কনমেবলের শীর্ষ দলগুলোকে দুই বছর পরই যদি একটি টুর্নামেন্টে দেখা যায়, তবে আর মানুষ বিশ্বকাপে দেখতে আগ্রহী হবেন কেন? বিশ্বকাপের চেয়েও এই নেশনস লিগের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি থাকবে। কারণ, বিশ্বকাপে আফ্রিকা, এশিয়া, ওশেনিয়া বা উত্তর আমেরিকা থেকেও দল থাকে বিশ্বকাপে। এতে ইউরোপ ও কনমেবলের সব সেরা দল বিশ্বকাপে জায়গা পায় না। কিন্তু নেশনস লিগে সে ঝামেলাও থাকবে না।

 

 

কিন্তু সেফেরিন জানেন, এটা আসলে হুমকি হিসেবেই বেশি কার্যকর। বাস্তবে দুই বছর পর এভাবে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর দেখা হলে মানুষ ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাবে। এ কারণেই, দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনেরও কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না উয়েফা প্রধান, মূল সমস্যা হলো বিশ্বকাপকে আকর্ষণীয় রাখতে হলে প্রতি চার বছর পরই আয়োজন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যদি দুই বছর পরপর হয়, তাহলে এটা মেয়েদের ফুটবলকে গিলে ফেলবে। কারণ, সে ক্ষেত্রে মেয়েদের বিশ্বকাপের বছরেও হবে বিশ্বকাপ (ছেলেদের) হবে। অন্য ক্রীড়া অনুষ্ঠান যেমন অলিম্পিক গেমসের বছরেও হবে, অনেক বড় ভুল।’

যদিও ফিফা এই প্রস্তাব পাস করে নেওয়ার পথেই আছে। ইংল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্স—এই প্রস্তাবের বিরোধী। ইউরোপের অধিকাংশ পরাশক্তিই এর বিপক্ষে। কিন্তু আফ্রিকার ৭৬ ভাগ ফেডারেশন এর পক্ষে। এশিয়ারও ৬৬ ভাগ ফেডারেশন দুই বছর পর বিশ্বকাপের পক্ষে।

 

 

কিন্তু সেফেরিন নিশ্চিত যে বিশ্বকাপের বর্তমান চক্র পাল্টাবে না। কারণ? ‘সহজ ভাষায় এটা খুব বাজে প্রস্তাব এবং আমরা এর বিরুদ্ধে, এ কারণে এটা হবে না এমন না। এটা হবে না কারণ, এটা একটা বাজে প্রস্তাব। অলিম্পিক গেমস কেন চার বছর পরপর হয়? কারণ, এটা এমন এক ইভেন্ট, যার জন্য আপনাকে অপেক্ষায় থাকতে হয়, আপনি এর প্রতীক্ষা করবেন এবং আপনি উপভোগ করেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় ইভেন্টও চার বছর পরপর হতে হবে। আর এটা তো পরিষ্কার, বিশ্বের ৭৫ ভাগ সমর্থক এই প্রস্তাবকে (দুই বছর পর বিশ্বকাপ) উড়িয়ে দিয়েছে।’

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top