ঢাকা শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৮

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে গেল বার্সেলোনা

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৬:০৩; আপডেট: ৯ ডিসেম্বর ২০২১ ১৬:০৫

 

বায়ান মিউনিখের কাছে শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়ে ২০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রæপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে বার্সেলোনা। বুধবার অনুষ্ঠিত অপর ম্যাচগুলোতে বেনফিকা, লিলি ও রেড বুল সালজবার্গ জয়ী হয়ে  নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে।

 

এদিকে শেষ মুহর্তে গোল হজম করে জেনিত সেইন্ট পিটার্সবার্গের সাথে ৩-৩ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে  বাধ্য হয়েছে চেলসি। এর ফলে তারা গ্রæপ-এইচ‘র রানার্স আপ হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠলো। মালমোকে শেষ ম্যাচে ১-০ গোলে পরাজিত করে চেলসির থেকে দুই পয়েন্ট বেশী নিয়ে গ্রæপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস।

 

গ্রæপ-এফ’র শেষ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইয়ং বয়েজের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে। যদিও এই ম্যাচের আগেই গ্রæপ সেরা হিসেবে ইউনাইটেডের শেষ ১৬ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবে এই গ্রæপের রানার্স-আপ দল বাছাইয়ে কাল মাঠে নামার কথা ছিল আটালান্টা ও ভিয়ারিয়ালের। কিন্তু ইতালির উত্তরাঞ্চলে প্রচন্ড তুষারপাতের কারনে আটালান্টার জুইয়িস স্টেডিয়ামে কাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি। আজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার  কথা রয়েছে।

 

গ্রæপ-ই’র দ্বিতীয় দল হিসেবে কাল বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে আলিয়াঁজ এরিনাতে মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা। পরের রাউন্ডে যেতে হলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিলনা বার্সার । গ্রæপের আগের পাঁচ ম্যাচেই জয়ী হয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে শীর্ষ দল হিসেবে নক আউট পর্বে যাওয়া বায়ার্নের সামনে কোনদিক থেকেই প্রতিরোধ গড়তে পারেনি জাভি হার্নান্দেজের বার্সেলোনা। ৩৪ মিনিটে থমাস মুলারের হেডে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বায়ার্ন। করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধের কারনে কাল মিউনিখের মাঠে ম্যাচটি দর্শকশুন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরতির ঠিক আগে লেরয় সানের শক্তিশালী শটে ব্যবধান দ্বিগুন হয়। ৬২ মিনিটে জামাল মুসিয়ালা দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করলে বার্সেলোনার সব আশা শেষ হয়ে যায়।

 

লিসবনের গ্রæপের অপর ম্যাচে ডায়নামো কিয়েভকে ২-০ গোলে পরাজিত করা বার্সেলোনাকে টপকে বেনফিকা পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে। বেনফিকার থেকে এক পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনাকে এখন খেলতে হবে ইউরোপা লিগে। ঘরের মাঠে বেনফিকার হয়ে প্রথমার্ধে গোল দুটি করেছেন রোমান ইয়ারেমচুক ও গিলবার্টো।

 

স্প্যানিশ গণমাধ্যমে ম্যাচ শেষে জাভি বলেছেন, ‘আমরা কোনভাবেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারিনি। এটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং এটাই এই প্রতিযোগিতায় আমাদের দলের বাস্তবতা। আমাদের এর মোকাবেলা করতেই হবে। একেবারে  শুন্য থেকে আমাদের নতুন একটি যুগের যাত্রা করতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য ইউরোপা লিগ নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।’

 

শেষ ১৭টি মৌসুমের প্রতিটিতেই নক আউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করেছে কাতালান জায়ান্টরা। ২০০৩-০৪ সালে তারা লা লিগার আগের মৌসুমে ষষ্ঠ স্থানে ছিল বলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা করতে পারেননি। সেবার বার্সাকে উয়েফা কাপ খেলতে হযেছিল। ২০০০/০১ মৌসুমে বার্সেলোন সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রæপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। ঐ দলের সদস্য ছিলেন ২০ বছর বয়সী জাভি। এসি মিলান ও লিডস ইউনাইটেডের পরে গ্রæপের তাদের অবস্থান ছিল তৃতীয়। পাঁচবারের ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নরা এখন ইউরোপা লিগে নেমে গেল।

 

এদিকে উল্ফসবার্গকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক আউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন  করলো ফরাসি চ্যাম্পিয়ন লিলি। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রæপ-জি’র শীর্ষ দল হিসেবে তারা শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে। জার্মানীর মাঠে ১১ মিনেটে বুরাক ইয়েলমাজের গোলে এগিয়ে যায় সফরকারী লিলি। কানাডিয়ান স্ট্রাইকার জোনাথান ডেভিড ৭২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। পাঁচ মিনিট পর এ্যাঞ্জেল গোমেজ  দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। ম্যাচ শেষের এক মিনিট আগে রেনাটো স্টিফেন উল্ফসবার্গের হয়ে সান্তনাসূচক এক গোল দিয়েছেন।

 

গত আট মৌসুমে অস্ট্রিয়ান চ্যাম্পিয়ন সালজবার্গ সেভিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে এই গ্রæপের রানার্স-আপ হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠেছে। রেড বুল এরিনাতে নোহা ওকাফোরের ৫০ মিনিটের গোলে সালজবার্গের জয় নিশ্চিত হয়। এই পরাজয়ে বার্সেলোনা, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মত ইউরোপা লিগে জায়গা হয়েছে সেভিয়ার।

 

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেলসি গ্রæপের আরেক জায়ান্ট জুভেন্টাসের সাথে শেষ ১৬ নিশ্চিত করলেও কাল আলাদা আলাদা ম্যাচে এই দুই দল গ্রæপ-এইচ’র শীর্ষস্থান দখলে মাঠে নেমেছিল। এতে সফল হয়েছে জুভেন্টাস। ইনজুরি টাইম পর্যন্ত চেলসি জেনিতের বিপক্ষে ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনো বাকি ছিল। ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে মাগোমেড ওজডোয়েবের গোলে চেলসির কপাল পুড়ে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ায় পয়েন্ট হারায় চেলসি। আর এতেই মালমোকে ১-০ গোলে পরাজিত করা জুভেন্টাসের গ্রæপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়ে যায়। তুরিনের আলিয়াঁজ স্টেডিয়ামে ১৮ মিনিটে জুভেন্টাসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন মোয়েস কিন।

 

জেনিতের মাঠে দ্বিতীয় মিনিটে টিমো ওয়ার্নারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল চেলষি। কিন্তু ক্লডিনহো ও সারডার আজমুনের গোলে বিরতির আগে ২-১ গোলের লিড পায় স্বাগতিক জেনিত। রোমেলু লুকাকুর গোলে ৬২ মিনিটে সমতায় ফিরে বøুজরা। গত তিন মাসে এটি বেলজিয়ান তারকা লুকাকুর প্রথম গোল। ৮৫ মিনিটে ওয়ার্নারের দ্বিতীয় গোলে চেলসি জয়ের প্রায় দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু ওজডোয়েভের গোলে জেনিত দারুন এক পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

 

চেলসি বস থমাস টাচেল বলেছেন, ‘আমার পর্যবেক্ষন একেবারে স্পষ্ট। আমরা যখন এগিয়ে থাকি তখন আমাদের শারিরীক ভাষা একেবারে পাল্টে যায়। এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নাহলে এমন দিন বারবার দেখতে হবে।’

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top