ঢাকা রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

ভিশন ২০৪১-এর সঙ্গে সমন্বয় করে উৎপাদনের কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করেছে ব্রি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২২ ১৫:১৮; আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ০০:১২

 

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই) আগামী দুই দশকের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরকারের ভিশন ২০৪১ এর সাথে সমন্বয় করে উদ্বৃত্ত উৎপাদনের জন্য একটি কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

ব্রি কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ধান উৎপাদনকারী এবং ভোক্তা, পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন আর আমদানির ওপর নির্ভরশীল নয়। 

ব্রি মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবির বাসসকে বলেন, ‘এসডিজি-২ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ২০৪১ সালের মধ্যে উদ্বৃত্ত চাল উৎপাদনের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, তাদের পরিকল্পনা একটি গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল দুটি প্রধান মৌসুমি ধান বোরো ও আমনের উৎপাদন বাড়ানো।

কবির বলেন, দেশের আবাদযোগ্য জমি প্রতিবছর এক শতাংশ হারে কমে যাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যও কৃষি খাত হুমকির মুখে পড়েছে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে তারা এই পরিকল্পনা তৈরি করেছেন।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে এখন প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টন ধান উৎপাদিত হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে ব্রি’র লক্ষ্যমাত্রা ২০৪০ সালে উৎপাদন ৫ কোটি ৪১ লাখ টন এবং ২০৫০ সালে ৬ কোটি ৯ লাখ টনে উন্নীত করা। প্রধানত আমন ও বোরোর উচ্চফলনশীল প্রজাতির উন্নয়নের মাধ্যমে এই উৎপাদন বাড়ানো হবে।

সরকারি পরিসংখ্যানে ২০২০ সালে দেশের জনসংখ্যার আকার ১৬ কোটি ৪৭ লাখ ধরা হয়, জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে ২০ লাখ নবজাতকের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এতে আগামী তিন দশকে জনসংখ্যার আকার দাঁড়াবে ২১ কোটি।

কবির ‘বাংলাদেশে ধানের উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ: এসডিজি-২ অর্জন এবং এগিয়ে যাওয়ার উপায় শীর্ষক গবেষণার নেতৃত্ব দেন, এই গবেষণা উপাত্তের ভিত্তিতে কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। 

তিনি বলেন, ‘আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি, জিনগত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতি বছর আমরা হেক্টর প্রতি ৪৪ কেজি হারে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছি। কৃষি-বাস্তুসংস্থান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফলনের ব্যবধান ১ শতাংশ কমিয়ে আনছি এবং নতুন জাতের দ্রুত সম্প্রসারণ করছি।’ 

ব্রি’র লিয়াজো অফিসার এবং কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষক দলের সদস্য আবদুল মমিন কবিরের বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, এই পরিকল্পনায় বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীর পানি ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী আউশ ধানের উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে এবং অনাবাদী জমি আবাদযোগ্য করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক কৃষিজমি রয়েছে, যেখানে ধানের উৎপাদন প্রায় ২১ শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে।’

ব্রি প্রধান বলেন, সহযোগী কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে পরিকল্পনার ৭৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হলেও বাংলাদেশে খাদ্য মজুদ, রফতানি এমনকি মাছের খাবারের জন্য উদ্বৃত্ত ধান উৎপাদন সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে উদ্বৃত্ত দাঁড়াবে ৪২ লাখ টন, ২০৪০ সালে ৫৩ লাখ টন এবং ২০৫০ সালে উদ্বৃত্ত দাঁড়াবে ৬৫ লাখ টন।

কম জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এক সময় আমদানিকৃত চালের ওপর নির্ভরশীল ছিল কিন্তু নতুন উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং উৎপাদনের যান্ত্রিকীকরণের কারণে দেশটি এখন দেশীয় উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং পুষ্টিবিদরা অবশ্য বলেছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে মানুষের খাদ্যাভ্যাসও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং মাছ, মাংস, ডিম এবং শাখসবজির উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাতের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাচ্ছে।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top